Posted by Aryan on 2026-01-13 08:14:50 |
Share: Facebook | Twitter | Whatsapp | Linkedin Visits: 28
হারাতে বসেছে কালিয়াচকের গর্বের তাঁত শিল্প
এক সময় মালদা জেলার কালিয়াচকের শেরশাহী ও মোথাবাড়ির বাবলা এলাকা তাঁত শিল্পের এক উজ্জ্বল কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ছিল। এলাকার প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই চলত তাঁতের কাজ। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত তাঁতের খটখট শব্দে মুখর থাকত গোটা গ্রাম। এখানেই তৈরি হত গামছা, শাড়ি ও লুঙ্গির মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় বস্ত্র, যার কদর শুধু স্থানীয় বাজারেই নয়, জেলার বাইরেও ছিল যথেষ্ট। মূলত মোমিন সম্প্রদায়ের মানুষরাই প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং তাঁদের হাতের কারুকাজে গড়ে উঠেছিল কালিয়াচকের আলাদা পরিচিতি।
কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই ঐতিহ্য আজ প্রায় বিলুপ্তির পথে। আধুনিক মেশিনে তৈরি সস্তা কাপড়ের দাপট, কাঁচামালের ক্রমাগত মূল্যবৃদ্ধি, উপযুক্ত বাজার ও বিপণন ব্যবস্থার অভাব এবং নতুন প্রজন্মের অনাগ্রহ—সব মিলিয়ে একে একে বন্ধ হয়ে গেছে অধিকাংশ তাঁতঘর। বর্তমানে হাতে গোনা কয়েকটি পরিবার কোনোরকমে এই শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করছেন। তাঁরা মূলত রংবেরঙের সুতির গামছা বুনেই সংসার চালানোর লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।
তাঁতিদের কথায়, আগের মতো শাড়ি বা লুঙ্গি তৈরি করা এখন আর সম্ভব হচ্ছে না। লাভের তুলনায় পরিশ্রম অনেক বেশি হলেও পৈতৃক পেশা ছাড়তে মন চায় না তাঁদের। এই শিল্পে বাড়ির মহিলারাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। সারাদিন কঠোর পরিশ্রম করে তাঁরা তিন থেকে চারটি গামছা বুনতে পারেন, যার বিনিময়ে দৈনিক আয় হয় মাত্র ১৫০ থেকে ২০০ টাকা। এই সামান্য আয়ে সংসার চালানো অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে।
ফলে বহু পরিবার বাধ্য হয়ে বিকল্প জীবিকার পথ বেছে নিচ্ছেন। অনেক মহিলা তাঁতের কাজ ছেড়ে বিড়ি বাঁধার কাজে যুক্ত হয়েছেন, আর পরিবারের পুরুষ সদস্যদের অনেকে ভিন রাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে কাজ করতে পাড়ি দিচ্ছেন। স্থানীয়দের দাবি, যদি সরকারিভাবে আর্থিক সহায়তা, প্রশিক্ষণ, আধুনিক নকশা ও সঠিক বাজারব্যবস্থার উদ্যোগ নেওয়া হয়, তবে আবারও ঘুরে দাঁড়াতে পারে এই ঐতিহ্যবাহী তাঁত শিল্প। নচেৎ ইতিহাসের পাতায় শুধু স্মৃতি হয়েই থেকে যাবে কালিয়াচকের শেরশাহী ও মোথাবাড়ির বাবলা এলাকার গর্বের এই